
এক বছর পরে: অধিকৃত কাশ্মীরের পহেলগামে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক হামলার এক বছর পূর্ণ হলো। এই সময়ে ভারত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানকে একঘরে করার লক্ষ্যে কাজ করেছে, নিজেদের আঞ্চলিক শক্তি এবং ‘সন্ত্রাসবিরোধী যোদ্ধা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে। কিন্তু প্রকৃত পরিস্থিতি ভিন্ন। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারত দক্ষিণ এশিয়ায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছে, আর পাকিস্তান শান্তির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।
অসত্য ও অপারেশন সিন্দুর: পহেলগাম হামলার বর্ষপূর্তিতে ২০২৬ সালের ২২ এপ্রিল বিজেপি নেতারা ‘অপারেশন সিন্দুর’-কে ভারতের ইতিহাসের অন্যতম সফল পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করেছেন। কিন্তু এই অভিযানের সাফল্য এবং ভারতের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পক্ষে কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ নেই। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং প্রতিবেশীদের দোষারোপ করলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন পাকিস্তানে ভারতের মদদপুষ্ট গোপন কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বিগ্ন।
অর্থনীতির অবস্থা এবং মূল্যস্ফীতি: মোদি সরকার আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জ্বালানির দাম কৃত্রিমভাবে কমিয়ে রেখেছে। ভারতের অর্থনীতি এখনও ব্যাপকভাবে বিদেশি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের পরই জ্বালানির দাম বাড়বে এবং সাধারণ জনগণ মারাত্মক মূল্যস্ফীতির কবলে পড়বে। এর মধ্যে ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজগুলি সাগর ও বিভিন্ন প্রণালিতে আটকা পড়ার খবর আসছে, এমনকি ইরানের পক্ষ থেকে ভারতীয় জাহাজে গুলি চালানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে।
গণমাধ্যমের সংকোচন: বাস্তব সমস্যাগুলো আড়াল করতে মোদি প্রশাসন নতুন ডিজিটাল মিডিয়া আইন প্রণয়ন করছে। এর ফলে স্বাধীন ইউটিউবার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি ও নিপীড়ন বাড়ছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, এই সংশোধনীর কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো কার্যত রাষ্ট্রের আজ্ঞাবহ সংস্থা হয়ে উঠবে। মূলধারার সংবাদমাধ্যম যখন অন্ধ জাতীয়তাবাদের প্রচারে ব্যস্ত, তখন স্বাধীন কণ্ঠস্বরগুলোকে স্তব্ধ করার প্রক্রিয়া চলছে।
বলিউড বনাম বাস্তবতা: যখন ভারত অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সংকটে জর্জরিত, তখন দেশটির একটি বিশাল অংশ ‘ধুরন্ধর টু’-এর মতো বলিউড সিনেমার রূপকথার মাঝে পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য খুঁজে বেড়াচ্ছে। অথচ পহেলগামের জনজীবনে আতঙ্ক এখনও বিরাজমান। পর্যটন ব্যবসা ধসের মুখে, এবং সাধারণ মানুষ প্রতিদিন সরকারি হয়রানির শিকার হচ্ছে।
ভারতের চ্যালেঞ্জ: পাকিস্তানের গঠনমূলক কূটনৈতিক উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হলেও, ভারত অবুঝ শিশুর মতো একগুঁয়েমি ও আস্ফালনের মাধ্যমে নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে চাইছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলের এই বাস্তবতা ভারতের আঞ্চলিক আধিপত্যের বাসনাকে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিশেষ নিবন্ধ।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।